চোখ উঠা একটি সংক্রামিত রোগ। বর্তমানে দেশে চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে এবং এই রোগটি অনেক যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে। এই চোখ উঠার কারণে বাহিরে কিংবা কোথায় চলাচল করা যায় না। এই রোগ সমন্ধে এমনিতেই আমাদের সমাজে কুসংস্কার বিদ্যমান রয়েছে। তাই এই রোগ থেকে বাঁচতে আমরা কত না কি করি। চোখ উঠার এ রোগকে কনজাংটিভাইটিস বলে। চোখের কনজাংটিভা নামক পর্দার প্রদাহই কে আমরা চোখ উঠা রোগ বলে থাকি। এ রোগটি মূলত ভাইরাসজনিত এবং ছোঁয়াচে রোগ।
চোখ ওঠা রোগ কেন হয়? কিভাবে চোখ উঠা রোগ ছড়ায়? চোখ উঠার লক্ষন কি? প্রতিরোধে করণীয়? কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত? চোখ উঠার ঘরোয়া চিকিৎসা কি? ইসলামিক উপায়ে চোখ উঠা রোগের দোয়া? ইত্যাদি সমন্ধে আজকে এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে জানতে পারব এবং বাংলা টেকলিংক এর সাথেই থাকুন।
চোখ উঠা রোগ কেন হয়
চোখ উঠা রোগ এটি সাধারণত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে হয়ে থাকে। আবার কখনো কখনো অ্যালার্জির কারণেও এ রোগ হয়ে থাকে। তবে এই রোগ সবচেয়ে বেশি হয় বর্ষা মৌসুমে। কারণ এই মৌসুমে বাতাসে আদ্রতা বেশি থাকে, তাই এ সময় চোখ উঠা রোগ বেশি হয়ে থাকে।
রোখ উঠা রোগ কীভাবে ছড়ায়
চোখ উঠা রোগ যেহেতু একটি ভাইরাসজনিত এবং ছোঁয়াচে রোগ। তাই এ রোগটি সাধারণত কন্টাক্টের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন: রোগীর ব্যবহৃত জিনিস ( গামছা, তোয়ালে, রুমাল ইত্যাদি) অন্যরা ব্যবহার করলে এ রোগ ছড়ায়। আবার হাত না ধুয়ে চোখ ছুঁলে অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যাক্তির ব্যবহৃত জিনিস কেউ ধরার পর যদি হাত না ধুয়ে চোখে হাত দেওয়া হয় তবে এই রোখ ছড়াতে পারে।
সারতে কতদিন লাগে
চোখ উঠা রোগ সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এই রোগটি সারতে কম বা বেশি সময় লাগতে পারে।
চোখ উঠার লক্ষণ
• চোখ লাল হয়ে যায়। সাধারণত প্রথমে এক চোখ লাল হয়ে, পরে দুই চোখই লাল হয়ে যায়।
• চোখ দিয়ে পানি পড়ে
• চোখে অস্বাস্তিবোধ হয় বা খচখচ করে
• চোখের পাতা ফুলে যায়
• আলো সহ্য হয় না
• চোখ ব্যথা করে
• চোখে হালকা জ্বালাপোড়া হয়
• চোখে পিচুটি বা কেতুর হয়
• কারো চোখের কর্নিয়া আক্রান্ত হলে তারা চোখে ঝাপসা দেখেন
• ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের পাতা লেগে থাকে
• ঘুমের সময় যন্ত্রণা অনুভব হই
• চোখে পানি দেওয়ার সময় চোখ ব্যথা করে
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
• সাধারণত চোখ লাল হলে ও সামান্য পরিমান চোখ দিয়ে পানি পড়লে তবে ৭ দিন অপেক্ষা করা ভালো। যদি ৭ দিন পার হয়ে গেলেও ভালো না হয় তবে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
• শিশু ও বড়দের ক্ষেত্রে চোখ ওঠার চিকিৎসা একই। তবে শিশু হলে ডাক্তার দেখানোই ভালো এতে করে তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যেতে পারবে ও অন্য কোনো সমস্যা হবে না।
• অনেক সময় দেখা যায় চোখ বেশি ফুলে যায়। এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
• খুব কমক্ষেত্রে এমন হয় যে, রোগীর চোখ দিয়ে রক্তপাত ঘটে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই উত্তম।
• কারো চোখের খচখবে বা চোখে কামড় কামড়া ভাব বেশি হয়, বেশি পরিমান চোখে কেতুর জমে চোখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চোখে দেখতে পারে না। এক্ষেত্রে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞ এর কাছে যেতে হবে।
চোখ উঠা রোগের চিকিৎসা, প্রতিরোধ ও সতর্কতা
• আলোর সংস্পর্শ হতে চোখ সুরক্ষা রাখার জন্য সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন।
• বর্ষা মৌসুমের সময় সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে।
• চোখ উঠা রোগীর জিনিসপত্র ব্যবহার না করা এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্র অবশ্যই ধুঁয়ে নিতে হবে বা পরিষ্কার করে নিতে হবে।
• হাত দিয়ে চোখ চুল্কানো যাবে না।
• রোগীকে কালো চশমা পরতে হবে
• ভিড় এড়িয়ে চলা
• চোখ উঠা রোগীদের আলাদা থাকতে হবে
• চোখ হালকা গরম পানি দিয়ে ধুইতে হবে এবং চোখ মোছার জন্য আলাদা কাপড় ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহৃত কাপড় অবশ্যই পরিষ্কার করে রাখতে হবে বা ধুয়ে রাখতে হবে
• অনেক সময় নিজের জ্ঞান বা অন্য কেউ বলেছে এমন জাতীয় ঔষধ বা দোকান থেকে স্টেরয়েড জাতীয় ড্রপ নিয়ে থাকেন। এ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। চিকিৎসকরা আপনার অবস্থা বুঝে স্টেরয়েড জাতীয় ড্রপ দিয়ে থাকেন। ফলে অন্যকে এ পরামর্শ বা তাকে বলবেন না যে, ওই ঔষধ ভালো। ডাক্তার এর কাছে গেলে, আপনাকে যে ড্রপ দিবেন সেটাই ব্যবহার করবেন
• এমনিতেই চোখ উঠা রোগ ভালো হয়ে যায়
চোখ উঠার ঘরোয়া চিকিৎসা
চোখ উঠা রোগ থেকে মুক্তি পেতে অবশ্যই কিছু কাজ বা নিয়ম মেনে চলতে হবে। এই চোখ উঠা রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা রয়েছে। দেখে নিন চোখ উঠার ঘরোয়া সমাধান–
১) শুকনো কাপড়কে গরম করে চোখে লাগানো। এতে করে আপনার চোখের পানি এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া মরে যাবে এবং চোখর কনজাংটিভা সক্রিয় হয়ে যায়। ফলে চোখ উঠা রোগ ভালো হয়ে যায়।
২) করেকটি পেয়ারার পাতা নিয়ে পাতাগুলোকে গরম করে কাপড়ে জড়িয়ে চোখে ধরে রাখুন। পেয়ারার পাতাগুলোকে তাওয়াতে গরম করে নিতে পারেন। দিনে ৩-৪ বার এই কাজটি করতে পারেন। এই কাজটির মাধ্যমে আপনার চোখের অবস্থা আরামদায়ক হয়ে উঠবে।
৩) ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী তেল (যেমন, ক্যাস্টার ওয়েল) ব্যবহার করতে পারেন। এটা করার জন্য আপনি প্রথমে কাপড় গরম করে চোখে লাগিয়ে তারপর তুলার সাহায্যে চোখে ক্যাস্টার ওয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মরে যাবে এবং চোখ উঠা রোগ থেকে আপনি মুক্তি পাবেন।
৪) প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর পূর্বে চোখ ধুয়ে কাপড় দ্বারা চোখে হালকা সেক দিয়ে নিন এবং এই রোগ হলে একটু রাতে কম ঘুমাবেন এবং সকালে ঘুম থেকে উঠা চোখ পানি দ্বারা পরিষ্কার করে নিবেন। ফলে এই রোগ তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে।
৫) অবশ্যই চোখে কাপড় দ্বারা সেক দেওয়ার সময় কাপড় কম গরম করে নিতে হবে। যদি কাপড় বেশি গরম হয়। তবে চোখ পানি দ্বারা ঠান্ডা করতে হবে অথবা তুলা নিয়ে বরফের মাঝে ধরে তারপর চোখে সেক দিতে পারেন।
চোখ উঠলে কি কি খাওয়া যাবেনা
চোখ উঠা রোগে যদি আপনি ভোগে থাকেন তবে আপনাকে কিছু খাবার থেকে এড়িয়ে চলতে হবে। যদি আমরা এই বিষয়ে নজর দিয়ে থাকি না তবে আমাদের কিছু খাবার এই সময় খাওয়া যাবে না। যদি এই সময় এইসব খাবারকে এড়িয়ে চলা যায় তবে চোখ উঠা রোগ তাড়াতাড়ি আভালো হয়ে যায়। তাই চোখ উঠার সমস্যায় যে সকল খাবারগুলো খাওয়া যাবেনা সেগুলো হল–
• অখাজ খাবার (যেমন; ইলিশ, চিংড়ি, বেগুন, সিম ইত্যাদি)
• ক্যান ফুড
• অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার
• মার্জারিন
• প্রসেসড মিট
• বেশি চিনিযুক্ত খাবার
• রিফাইন্ড খাবার
চোখ উঠলে কি কি খাওয়া যাবে
• পিংক সল্ট
• কমলা ও হলুদ রঙের ফলমূল
• সবুজ শাকসবজি
• আমলকি, কিসমিস, খেজুর
• মধু, ঘি
• শর্করা, আমিষ জাতীয় খাবার
চোখ উঠার দোয়া
اللهم اني اعوذ بك من شر سمي وشري بصري وشري لساني وشري قلبي وشري مني
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন সাররি সামিয়ি ওয়া সাররী বাসারী ওয়া সাররী লিসানী ওয়া সাররী কলবি সাররী মানিয়্যি।
অর্থ: হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে আমার কানের অপকারিতা চোখের অপকারিতা জবানের অপকারিতা অন্তরের অপকারিতা এবং বীর্যের অপকারিতা থেকে আশ্রয় চাই। (মিশকাত আবু দাউদ)
★ব্লগিং কি? মোবাইল দিয়ে কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো এবং ব্লগিং থেকে কত আয় করা যাবে? অনলাইন আয়
কিছু সম্পর্কিত প্রশ্ন
১) চোখ উঠা কি ছোঁয়াচে রোগ?
উত্তর: হ্যাঁ। চোখ উঠা রোগ একটি ছোঁয়াচে ও ভাইরাসজনিত রোগ।
২) চোখ উঠার ড্রপের নাম কি?
উত্তর: নিজের মতে ঔষধ সেবন থেকে বিরত থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।
৩) চোখ উঠলে কত দিন থাকে?
উত্তর: আপনার চোখের উপর ও আপনি কতটুকু চোখের যত্ন নেন তার উপরে সময় লাগে। তবে বলা যায় যে, ৭ থেকে ১০ দিনে লাগে সর্বোচ্চ। এই সময়ের কম বেশি হতে পারে।
আমাদের শেষ কথা
আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে তুলে ধরলাম, চোখ উঠা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার। যদি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার এক বিন্দুমাত্র উপকৃত হয়ে থাকেন তবে আমাদেরকে জানাতে পারে। এতে করে আমরা আরো রোগের সমন্ধে আর্টিকেল লিখতে অনুপ্রেরণা পাবো। আর আমাদের এই সাইটের সাথেই থাকুন। এখানে প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, খবরাখবর, চিকিৎসা সম্পর্কিত তথ্য, অনলাইন ইনকাম সমন্ধে প্রতিনিয়ত আর্টিকেল পোস্ট করা হয়ে থাকে। তাই আমাদের সাইটটিকে সাবস্ক্রাইব করে পাশেই থাকুন। ধন্যবাদ আপনাকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন