গ্যাস্টিকের জন্য সবচেয়ে ভালো সিরাপ কোনটি- গ্যাস্টিক নেই এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না! এই রোগের আক্রান্ত ব্যক্তিই জানে গ্যাস্টিক রোগ কতটা ভয়ংকর হতে পারে। যা আমাদের চিন্তা-ভাবনার বাহিরে। গ্যাস্টিক এর কারণে অনেক রোগী মারা পর্যন্ত যেতে পারে। এই রোগ কিছু কিছু কারণে বা আমাদের কিছু গাফলতির কারণে দেহে বাসা বাধে। উক্ত কারণগুলি আমি আমার পূর্বের আর্টিকেল এ বলে দিয়েছি- যারা পড়েন নাই। তারা এই আর্টিকেল সম্পূর্ণ পড়ার পর সেটা পরে আসতে পারেন। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক - গ্যাস্টিকের জন্য সবচেয়ে ভালো সিরাপ কোনটি?
গ্যাস্টিক কি
গ্যাস্টিক পরিপাকতন্ত্রের একটি জটিল সমস্যা জনিত রোগ। মূলত গ্যাস্টিক এর মূল কারণ - আমরা জানি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে হাইড্রোক্লোরিক এসিড বিদ্যমান। এই এসিডের কাজ কাজ হচ্ছে - আমরা যেসব খাবার খাই, সেগুলোকে মূত্রে পরিণত করা। আর এই গ্যাসটি প্রতি ৪ ঘন্টা বাদে বাদে কাজ করে থাকে। আর যখন এই গ্যাসটি কাজ করে তখন যদি আমাদের পেটে খাদ্য না থাকে তবে আমাদের পরিপাকতন্ত্রটি ক্ষতিগস্ত হয়। এই এই ক্ষতির ফলেই সৃষ্ট হয় গ্যাস্টিক রোগ। এছাড়া যকৃতের দীর্ঘদিন প্রদাহ থেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সূত্রপাত ঘটে থাকে। তাই আমাদের উচিত সময়মতো খাবার খাওয়া আর যদি কোনো কারনে না খেতে পারি তাহলে অন্তত ১ থেকে ২ গ্লাস পানি পান করতে পারি। এতে করে আমাদের দেহে গ্যাস্টিক সমস্যা হবে না।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য কোন সিরাপ ভালো
বর্তমানে গ্যাস্টিক এর রোগী দিন দিন বেড়েই চলছে। এতে করে গ্যাস্টিক এর ঔষধও বাড়ছে। তবে কিছু কিছু ঔষধ আছে যেগুলা গ্যাস্টিক এর জন্য উপকারী। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ট্যাবলেট এবং সিরাপ দুই ধরনের ঔষধি বিভিন্ন কোম্পানি তৈরি করে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক ধরনের ট্যাবলেট খাওয়ার পরেও গ্যাস্ট্রিক কমে না। আর যদি এমনটা হয় তবে আপনি সিরাপ খেতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে ট্যাবলেট খাওয়ার পর গ্যাস্টিক না কমলেও সিরাপ সেবন করাতে গ্যাস্টিক সমস্যা দূর হয়ে গেছে। তাই আমরা নিম্নের এমন সব সিরাপ এর উল্লেখ করেছি - যাতে আপনার গ্যাস্টিক দূর করতে সাহায্য করবে।
আরলজাইম সিরাপ
যাদের পাকস্থলীতে আলসার, অতিরিক্ত গ্যাস, বদহজম ইত্যাদি এইসব সমস্যাগুলো রয়েছে তারা আরলজাইম সিরাপ সেবন করতে পারেন। এছাড়াও যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে লড়াই করে তাদের জন্য এই সিরাপটি খুব উপকারী।
অ্যানটানিল প্লাস
অনেকের ট্যাবলেট খেয়েও গ্যাস্টিক কমে না। তবে এই সিরাপটি গ্যাস্ট্রিকের জন্য অন্যতম কার্যকারী একটি সিরাপ। যাদের অতিরিক্ত গ্যাস, ক্ষুধা কম হয়, বদ হজম, বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা, পেট ফুলা এবং অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া ইতালির এইসব সমস্যাগুলো নিয়ে ভোগছেন। তারা এই সিরাপটি খেতে পারেন। এতে করে ইনশাআল্লাহ আপনার গ্যাস্টিকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
কারমিনা সিরাপ
কারমিনা সিরাপ হচ্ছে মুখে রুচি জোগায় এবং গ্যাস্টিকের ৯টি সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। যেমনঃ অম্বল, বায়োজনিত পেট ব্যথা, পাকস্থলী লিভারের দুর্বলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামন্দা এই সমস্যাগুলো থেকে কারমিনা সিরাপ আরাম দেবে। তাই আপনার যদি গ্যাস্টিক সমস্যা থেকে থাকে তবে আপনি কারমিনা সিরাপ খেতে ভুলবেন না।
এন্টাসিড প্লাস সিরাপ
ঢেকুর ওঠা, বুক জ্বালাপোড়া, পেট জ্বালাপোড়া, আলসার, বদহজম এই সমস্যা গুলো যাদের হয় তারা অ্যান্টাসিড প্লাস নামে এই সিরাপটি খাবেন। তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে খেতে হবে।
গ্যাভিসল সিরাপ
গ্যাভিসল ঔষধটি হচ্ছে - যেসকল মা-বোন গর্ভবতী আছেন এবং সাথে গ্যাস্টিক সমস্যায় ভুগছেন। তারা এই ঔষধ সেবন করতে পারেন। এই ঔষধদের বিশেষত্ব হচ্ছে - এই সিরাপ এ চিনি নেই মানে চিনিমুক্ত সিরাপ এটি। এটি বদহজম ঢেকুর উঠা বুক জ্বালাপোড়া পেট ফাঁপা পেট ব্যথা সকল গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সমাধান দিবে। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি খেতে হবে।
গ্যাসট্রোকন ডি এ সিরাপ
যারা গ্যাস্টিকের জটিল সমস্যায় ভুগছেন। অর্থাৎ যারা অতিরিক্ত গ্যাসে ভুগছেন এছাড়াও ঢেকুর তোলা, বমি আসা, অম্বল বেড়ে যাওয়া, পেট ফুলে থাকা ইত্যাদি সকল সমস্যার জন্য এই সিরাপটি বেশ উপকারী। আপনি এই সিরাপটি খেতে পারেন। তবে অবশ্যই তা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে।
ফেমোট্যাক সিরাপ
ফেমোট্যাক সিরাপটি মূলত ছোট বাচ্চাদের জন্য। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে অনেক ছোট ছেলেমেয়েদেরও গ্যাস্টিক রয়েছে। বিশেষ করে এই সিপারটি তাদের জন্যই। বাচ্চাদের গ্যাসের জন্য এটি খুব ভালো সিরাপ। এক থেকে ১৬ বছর বয়স্ক যে কোন ব্যক্তি এই সিরাপ খেতে পারেন। যেসব বাচ্চার বদহজম এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এই সিরাপটি খুবই কার্যকারী।
হারবিসল সিরাপ
হারবিসল সিরাপ বাচ্চার পেটে গ্যাস এবং বদহজম একটি বড় ধরনের সমস্যা। এই কারণে বাচ্চারা অনেক সময় কান্নাকাটি করে, শরীরে অনেক বেশি গ্যাস্টিক দেখা দেয়। এই হারবিসল সিরাপটি এসব সমস্যা সমাধান করতে পারে।একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এই সিরাপটি আপনি আপনার শিশুকে খাওয়াতে পারেন।
উপরে উল্লেখিত সিরাপগুলো আপনি তখনই খেতে বা খাওয়াতে পারেন যখন আপনাকে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক নিয়ম-কানুন অনুযায়ী ওষুধটি খেতে বলবেন। ওষুধ কখনোই নিজের মতো করে নিজের নিয়মে খাওয়া উচিত নয় এতে করে শরীরের উন্নতির চেয়ে অবনতি ডেকে আনতে পারেন আপনি। তাই অবশ্যই ওষুধগুলো খেতে হলে আপনি একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেটের নাম
বাজারে এখন বেশ কিছু কোম্পানির গ্যাস্টিকের ঔষধ পাওয়া যায়। এমনি বাজারে বিভিন্ন ঔষধ গ্যাস্টিকের জন্য তেমন কোনো কাজ করতে পারেন না বরং ঐ সব ঔষধগুলো খেলে গ্যাস্টিক সমস্যা বাড়তে পারে। তাই আমরা কিছু বিশেষ গ্যাস্টিকের ট্যাবলেটের নাম নিম্নে দিয়ে দিচ্ছি-
- রেনিটেডিন
- সার্জেল
- রোলাক
- সেকলো
- রাবি প্লাজল
- ইসুমি প্লাজল
- প্যানটোনিক্স
- নিউ ট্রাক
- ওর ট্রাক
- লোসেক্টিল
- ম্যাক্সপ্রো
- এক্সিজিয়াম
- ওসেপ্লাজল
- ইসুলুক
- এন্টাসিড ইত্যাদি।
গ্যাস্ট্রিকে কোন ট্যাবলেট খাওয়া ভালো
বাজারের বিভিন্ন ধরনের গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ কোম্পানিদের সকল ঔষধি গ্যাস্ট্রিকের জন্য উপকারী। তবে আসলে চিকিৎসকরা ভালো বলতে পারবেন গ্যাস্ট্রিকের জন্য কোন ওষুধটি আপনার খাওয়া উচিত। তবে সাধারণত বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে যেসকল গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ গুলো সেগুলো হচ্ছেঃ
- সার্জেল ২০ এমজি
- সেক্লু ২০ এমজি
- এন্টাসিড
- ম্যাক্সপ্রো
- ওমেপ্রাজল
- ফিনিক্স ২০ এমজি
- ওপি ২০ এমজি
- লোসেক্টিল
- টার্গেট ২০ এমজি
আমাদের শেষ কথা
গ্যাস্টিক একটি মারাত্মক রোগ। এই রোগে আক্রান্ত কোনো রোগীর উচিত গ্যাস্ট্রিক বাড়ে এমন কাজগুলো সবসময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা। ওষুধ খেয়ে গ্যাস্ট্রিক কমানো কখনোই একটি ভালো সমাধান হতে পারে না। মনে রাখবেন গ্যাস্ট্রিক প্রতিরোধ করাই উত্তম। ওষুধের মধ্যে অনেক রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে যেগুলো শরীরের ক্ষতি সাধন করে। তাই বাইরের খাবার অতিরিক্ত তেল মসলাদার খাবার এবং গ্যাস বাড়ে এমন কোন খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খান সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন।
কিছু সম্পর্কিত প্রশ্নত্তর
গ্যাস্ট্রিকের সিরাপ কোনটি ভালো?
গ্যাস্ট্রিকের সিরাপ আসলে কোনটি ভালো সেটা একজন রেজিস্টার চিকিৎসা কি বলতে পারবেন।
বাচ্চাদের পেটে গ্যাস ও বদ হজমের সিরাপ কোনটি?
হারবিসল, ফেমোট্যাক এই দুইটি সিরাপ বাচ্চাদের গ্যাস্টিক বা পেটে গ্যাস ও বদহজমের জন্য বেশ উপযোগী ঔষধ।
পাকস্থলীর আলসার নিরাময় করে কোন সিরাপ?
আরলজাইম নামক সিরাপটি পাকস্থলীর আলসার গ্যাস এবং অন্যান্য অনুরূপ সমস্যা গুলোর সমাধান দেয়। এছাড়াও বদহজম, পেটের আলসার, কুষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে থাকে এই সিরাপ।
পোস্ট ট্যাগ-
গ্যাস্ট্রিক সিরাপ,গ্যাসের সিরাপের নাম,গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট কোনটা ভালো,গ্যাস্ট্রিকের ঔষধের নামের তালিকা,গ্যাস্ট্রিকের ঔষধের নাম বাংলাদেশ,গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা ও দাম,গ্যাস্ট্রিকের সিরাপের নামের তালিকা,গ্যাস্ট্রিকের সিরাপ খাওয়ার নিয়ম,গ্যাস্টিকের জন্য কোন ট্যাবলেট ভালো,গ্যাস্টিক কি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন