কি কি কারণে কোরবানি নষ্ট হতে পারে এবং গোশত বন্টন? Bangla TechLink

কোরবানি গরুর ছবি ও গোশত বন্টন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে- দুইটি। প্রথমটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর (রোজা ঈদ) এবং অপরটি হচ্ছে ঈদুল আজহা (কোরবানি ঈদ)। ঈদুল আজহার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে - এই ঈদে মুসলমানরা গবাদি পশু কোরবানি করে থাকে। তবে সব ধরনের পশু কোরবানি করা যাই না। এছাড়াও কোরবানির রয়েছে নিদিষ্ট নিয়ম-কানুন - সেগুলো অনুসরণ না করা হলে কোরবানির সওয়াব/নেকি পাওয়া যাই না। 

তাই আজকে আমরা কোরবানির সঠিক নিয়ম জানব। কোরবানি কেন করব? কোরবানি করা কখন ফরজ? কি কি পশু কোরবানি করা জায়েজ? কোরবানিকৃত পশুর গোশত কিভাবে বন্টন করতে হয়? ইত্যাদি। তো সবাইকে এই বিষয় এ জানতে হবে কেননা আমরা মুসলমান। তাই ধৈর্যসহকারে আমরা সবাই পুরোটা আর্টিকেল পড়িব। ইনশআল্লাহ 


কোরবানি কেন করব? 

কোরবানি হচ্ছে উৎসর্গ করা। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সহি নিয়ত নিয়ে নিজের হালাল টাকায় কেনা পশু আল্লাহ নামে উৎসর্গ করাকে কোরবানি বলে। যদি কয়েকজন মুসলমান মিলে একটা কোরবানি পশু আল্লাহর নামে জবাই করে তবে তাদের কোরবানির পশুতে প্রত্যেক অংশীদারের অংশ সমান হতে হবে।

কোরবানি গোশত কিভাবে বন্টন করতে হয়?

কোরবানিকৃত পশুর গোশত সকলকে সমান ভাগে ভাগ করে দিতে হবে।

❝কারো অংশ অন্যের অংশ থেকে কম হতে পারবে না। ❞ (যেমন: কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ।)

এমন হলে কোনো শরিকের কোরবানি শুদ্ধ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/২০৭) 

উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে বা সাতের কমে যে-কোনো সংখ্যা (যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েজ। (মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭) 


কি কি কারণে কোরবানি নষ্ট হতে পারে?

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটা বিশেষ দিন হচ্ছে কোরবানির ঈদ। এই দিনের অনেক ফজিলত রয়েছে। বিশেষ করে এই ঈদে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করে থাকেন। আর যদি এই কোরবানিতে নিম্নের কোনো একটি ত্রুটি থাকে তবে আমাদের কোরবানির কোনো নেকি পাওয়া যাবে না। কোরবানি নষ্ট হয় এমন কিছু ত্রুটিগুলো নিচে উল্লেখ করা হয়েছে-

কোরবানির গরু কিনার আগে কি কি জানতে হবে বিস্তারিত ভিডিও তে - এখানে ক্লিক করুন 


কোনো অংশীদারের নিয়ত গলদ হলে 

যদি কয়েকজন মুসলমান মিলে একটা কোরবানি পশু আল্লাহর নামে জবাই করে তবে বিশেষ করে এই ভুলটি হয়ে থাকে। তাই যদি কেউ অংশীদারত্বের মাধ্যমে কোরবানি করে থাকেন তবে সকলকে প্রথমে নিয়ত সহি করতে হবে। নিয়তে কোনো প্রকার ত্রুটি বা গলদ করা যাবে না। অংশীদারত্বের সকলেই নিয়ত থাকিবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আল্লাহর পথেই এই ত্যাগ করছি। কারো মনে গোশত খাওয়া নিয়ে সংশয় থাকা বা বন্টনের সময় কাউকে গোশত না দেওয়া বা মনে বিন্দু পরিমাণ হিংসা রাখা যাবে না। 


কোরবানির পশুতে আকিকার অংশ

• কোরবানির গরু, উট, মহিষ আকিকার নিয়তে অংশীদার হতে পারবে। এতে কোরবানি ও আকিকা দুটোই শুদ্ধ হবে। আকিকার পশুর গোশত ছেলের জন্য দুই অংশ আর মেয়ের জন্য এক অংশ দিতে হবে। 

• শৈশবে আকিকা না করা হলে বড় হয়েও আকিকা করা যাবে। যার আকিকা সে নিজে বড় হয়েও দিতে পারবে। আকিকার গোশত নিজে এবং বা-মা সকলেই খেতে পারবে। (ইলাউস সুনান: ১৭/১২৬)

• ফাতাওয়া শামীসহ ফিকহ-ফাতাওয়ার কিতাবাদিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোরবানির সাথে আকিকা সহীহ। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬ ; হাশিয়াতুত তহতাভি আলাদ্দুর: ৪/১১৬)


ডিএসএলআর ক্যামেরাকে টক্কর দিতে বাজারে আসতে যাচ্ছে ভিভোর নতুন ফোন-ভিভো ফোন প্রাইস ইন বাংলাদেশ - সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুনঃ 

হারাম টাকার কোরবানি? 

• কোরবানি যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাই কোরবানিকৃত পশুতে কোনো প্রকার হারাম টাকা দিয়ে কোরবানি দিলে কোরবানি হবে না। আর যদি হারাম টাকা দ্বারা কোনো পশুতে অংশীদার হওয়া হয় তবে সকলের কোরবানি শুদ্ধ হবে না। তাই কোরবানির অংশীদারদের ভালো করে বেচে নিতে হবে যাতে তারা মুমিন হয় বা তাদের নিয়ত শুদ্ধ থাকে এবং তাদের ইনকাম হালাল এমন ব্যাক্তি নির্বাচন করতে হবে। 


• কেউ যদি গরু, মহিষ বা উট একা কোরবানি দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয়, তাহলে তার জন্য এপশুতে অন্যকে অংশীদার করা জায়েয। তবে এতে কাউকে শরিক না করে একা কোরবানি করাই শ্রেয়। শরিক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম।


• আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়, যার উপর কোরবানি করা ওয়াজিব নয়, তাহলে যেহেতু কোরবানির নিয়তে পশুটি ক্রয় করার মাধ্যমে লোকটি তার পুরোটাই আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে নিয়েছে, তাই তার জন্য এপশুতে অন্যকে শরিক করা জায়েজ নয়। যদি শরিক করে তবে ওই টাকা সদকা করে দেওয়া জরুরি হবে। কোরবানির পশুতে কাউকে শরিক করতে চাইলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে নিতে হবে। (কাজিখান: ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১০)


উপরে উল্লেখিত বিষয়সমূহ মেনে চলার এবং ইসলামি জ্ঞান অর্জন করা তৌফিক দান করুক। ইসলামিক আর্টিকেল পেতে আমাদের উৎসাহিত করান এবং আমাদের সাপোর্ট করেন। ইনশাআল্লাহ তাহলে আমরা আপনাদের জন্য ইসলামি নানা বিষয় এ আর্টিকেল লিখব এবং এই ওয়েবসাইটে পোস্ট করব। ধন্যবাদ 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন