এবারের ভোট কিভাবে দিব? ১৩তম বাংলাদেশ নির্বাচন

এবারের ভোট কিভাবে দিব? ১৩তম বাংলাদেশ নির্বাচন


এবারের ভোট কিভাবে দিব? ১৩তম বাংলাদেশ নির্বাচন 

ভোট দেয়া প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার ও পবিত্র দায়িত্ব। বাংলাদেশে নির্বাচন এলেই নতুন ও পুরাতন ভোটারদের মনে প্রশ্ন জাগে—"এবারে ভোট কিভাবে দিব?" বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন বা দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য সঠিক নিয়ম জানাটা জরুরি। আজকের এই ব্লগে আমরা খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করব কিভাবে আপনি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কোনো ঝামেলা ছাড়াই আপনার মূল্যবান ভোটটি প্রদান করবেন।

ভোট দিতে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি

ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরিঃ

১. ভোটার লিস্টে নামঃ আপনার এলাকার ভোটার তালিকায় আপনার নাম আছে কিনা নিশ্চিত হোন। 

২. ভোটার স্লিপ/নম্বরঃ নির্বাচনের আগে সাধারণত বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ পৌঁছে দেওয়া হয়। এটি সাথে থাকলে আপনার সিরিয়াল নম্বর বের করা সহজ হয়। 

৩. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): যদিও অনেক সময় শুধু আঙুলের ছাপ বা নাম মিলিয়ে ভোট দেয়া যায়, তবুও স্মার্ট কার্ড বা এনআইডি কার্ড সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের ধাপসমূহ

ভোট কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর আপনাকে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবেঃ

১. লাইনে দাঁড়ানো

নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা লাইন থাকে। নির্দিষ্ট লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলার সাথে অপেক্ষা করুন।

২. পরিচয় নিশ্চিতকরণ (১ম পোলিং অফিসার)

কেন্দ্রে ঢোকার পর প্রথম পোলিং অফিসার আপনার নাম ও ভোটার নম্বর মিলিয়ে দেখবেন। তিনি আপনার পরিচয় নিশ্চিত করবেন।

৩. আঙুলে কালি ও স্বাক্ষর (২য় পোলিং অফিসার)

দ্বিতীয় পোলিং অফিসারের কাছে গেলে তিনি আপনার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের নখে অমোচনীয় কালি (Indelible Ink) লাগিয়ে দেবেন। এরপর ভোটার তালিকায় আপনার স্বাক্ষর বা টিপসই নেবেন।

ভোট দেয়ার পদ্ধতি (ব্যালট পেপার বনাম ইভিএম)

বাংলাদেশে বর্তমানে দুইভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়ঃ ব্যালট পেপার এবং ইভিএম (EVM)। আপনার এলাকায় যেই পদ্ধতিতে ভোট হচ্ছে, সেই নিয়মটি নিচে দেখে নিন।

ক) ব্যালট পেপারে ভোট দেয়ার নিয়ম

যদি সনাতন পদ্ধতিতে ভোট হয়, তবে ৩য় পোলিং অফিসার আপনাকে ব্যালট পেপার দেবেন।

সিল মারাঃ গোপন কক্ষে গিয়ে আপনার পছন্দের প্রতীকের ওপর নির্ধারিত সিলটি মারুন।

ভাজ করাঃ সিল মারার পর এমনভাবে ব্যালট পেপার ভাজ করবেন যেন সিলের কালি অন্য প্রতীকে না লাগে।

বাক্সে ফেলাঃ এরপর ব্যালট পেপারটি নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে ফেলুন।

খ) ইভিএমে (EVM) ভোট দেয়ার নিয়ম

যদি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট হয়, তবে নিয়মটি একটু ভিন্ন এবং সহজঃ 

১. আঙুলের ছাপঃ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মেশিনে আপনার আঙুলের ছাপ নিয়ে ব্যালট ইউনিট ওপেন করে দেবেন। 

২. গোপন কক্ষঃ এরপর আপনি গোপন কক্ষে যাবেন যেখানে ইভিএম মেশিন রাখা আছে। 

৩. প্রতীক নির্বাচনঃ মেশিনের স্ক্রিনে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক দেখতে পাবেন। পছন্দের প্রতীকের পাশের সাদা বাটনটি চাপুন। 

৪. ভোট নিশ্চিতকরণঃ সাদা বাটন চাপলে লাইট জ্বলবে। এরপর সবুজ বাটনটি (Confirm) চাপলে আপনার ভোট সম্পন্ন হবে।

সতর্কতাঃ সবুজ বাটন না চাপা পর্যন্ত ভোট সম্পন্ন হবে না। ভুল বাটন চাপলে 'লাল' বাটন বা ক্যানসেল চেপে পুনরায় সিলেক্ট করতে পারবেন (সবুজ বাটন চাপার আগে পর্যন্ত)।

ভোট কেন্দ্রের কিছু জরুরি নিয়ম ও সতর্কতা

ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরিঃ

  • ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ।
  • শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখুন এবং পোলিং অফিসারদের সহায়তা করুন।
  • একজনের ভোট অন্যজন দিতে পারবেন না।
  • জালে ভোট বা দুবার ভোট দেয়ার চেষ্টা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্নঃ আমার এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেছে, আমি কি ভোট দিতে পারব? 

উত্তরঃ হ্যাঁ, পারবেন। ভোটার তালিকায় আপনার নাম ও ছবি থাকলে এবং আপনি পোলিং অফিসারকে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলে ভোট দিতে পারবেন। তবে এনআইডি নম্বর বা ভোটার স্লিপ সাথে থাকলে সুবিধা হয়।

প্রশ্নঃ ইভিএমে ভুল বাটনে চাপ দিলে কী করব? 

উত্তরঃ যতক্ষণ আপনি চূড়ান্ত 'সবুজ' বাটনটি চাপেননি, ততক্ষণ আপনি আপনার পছন্দ পরিবর্তন করতে পারবেন। ভুল হলে ক্যানসেল করে আবার সঠিক প্রতীকের পাশের সাদা বাটন টিপুন।

প্রশ্নঃ ভোট কেন্দ্রে কতক্ষণ সময় লাগে? 

উত্তরঃ এটি ভিড়ের ওপর নির্ভর করে। তবে বুথের ভেতরে ভোট দিতে সাধারণত ১-২ মিনিটের বেশি সময় লাগে না।

উপসংহার

আপনার একটি ভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। তাই অলসতা না করে সঠিক সময়ে ভোট কেন্দ্রে যান এবং আপনার পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিন। আশা করি, "এবারে ভোট কিভাবে দিব"—এই প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়ে গেছেন। পোস্টটি ভালো লাগলে পরিচিতদের সাথে শেয়ার করে তাদেরও নিয়মগুলো জানতে সাহায্য করুন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন