গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকিৎসা

gastric-dur-korar-upay-bangla


গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় 

বাঙালি মানেই ভোজনরসিক। কিন্তু অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, অনিয়ম, আর ভাজাপোড়া খাওয়ার ফলে ঘরে ঘরে যে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তা হলো গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি। বুক জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব—এই লক্ষণগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে।

আপনি কি জানেন, কেবল কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে আর ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব? আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করবো গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় এবং এমন কিছু টিপস যা আপনাকে ওষুধ ছাড়াই সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।

গ্যাস্ট্রিক কেন হয়?

সমাধান জানার আগে কারণ জানা জরুরি। সাধারণত নিচের কারণগুলোর জন্য এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়ে থাকে:

  • দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা।
  • অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া।
  • খাবার ঠিকমতো চিবিয়ে না খাওয়া।
  • পর্যাপ্ত পানি পান না করা।
  • অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা।

গ্যাস্ট্রিক দূর করার ১০টি কার্যকরী ঘরোয়া উপায়

হাতের কাছে থাকা সাধারণ কিছু উপাদান দিয়েই আপনি তাৎক্ষণিক গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কমাতে পারেন। চলুন জেনে নিই উপায়গুলো:

১. আদা (Ginger)

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় আদা জাদুর মতো কাজ করে। আদায় থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।

খাওয়ার নিয়ম: সামান্য লবণ দিয়ে কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন অথবা আদা কুচি দিয়ে ফোটানো পানি চায়ের মতো পান করতে পারেন।

২. জিরা (Cumin)

জিরা হজম শক্তি বাড়াতে এবং পেটের গ্যাস দূর করতে দারুণ কার্যকর।

খাওয়ার নিয়ম: এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ জিরা দিয়ে ফুটিয়ে সেই পানি ছেঁকে পান করুন।

৩. লবঙ্গ (Clove)

বুক জ্বালাপোড়া ও বমি ভাব দূর করতে লবঙ্গ খুব ভালো কাজ করে। এটি পাকস্থলীর এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

খাওয়ার নিয়ম: ২-৩টি লবঙ্গ মুখে নিয়ে চুষে রস খান।

৪. টক দই (Yogurt)

টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা ভালো ব্যাকটেরিয়া হজমে সহায়তা করে এবং ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।

খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন দুপুরের খাবারের পর এক কাপ টক দই খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৫. প্রচুর পানি পান করা

গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সঠিক পরিমাণে পানি পান করা। পানি পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড ও টক্সিন বের করে দেয়।

পরামর্শ: সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ১-২ গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করুন।

৬. তুলসী পাতা

তুলসী পাতা পাকস্থলীতে শ্লেষ্মা বা মিউকাসের মতো পদার্থ তৈরি করতে সাহায্য করে, যা এসিডিটি কমায়।

খাওয়ার নিয়ম: ৫-৬টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে বা পানিতে ফুটিয়ে খেলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

চিরতরে গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায়

শুধুমাত্র ঘরোয়া টোটকাই যথেষ্ট নয়, গ্যাস্ট্রিককে চিরতরে বিদায় জানাতে হলে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:

সময়মতো খাবার খাওয়া: দীর্ঘক্ষণ পেট খালি রাখবেন না। অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।

খাবার চিবিয়ে খাওয়া: খাবার তাড়াহুড়ো করে না খেয়ে ধীরে ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খান। এতে হজম সহজ হয়।

রাতের খাবার: ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন। খেয়েই সাথে সাথে শুয়ে পড়বেন না।

ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ: ধূমপান এবং মদ্যপান পাকস্থলীর এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।

বাম কাত হয়ে শোয়া: রাতে ঘুমানোর সময় বাম কাত হয়ে শোয়ার চেষ্টা করুন। এটি এসিড রিফ্লাক্স কমাতে সাহায্য করে।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

সুস্থ থাকতে হলে নিচের খাবারগুলো তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা কমিয়ে দেওয়া উচিত:

  • অতিরিক্ত ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার।
  • ফাস্ট ফুড বা প্রসেসড ফুড।
  • অতিরিক্ত চা বা কফি (খালি পেটে একদমই নয়)।
  • কোমল পানীয় বা সোডা।

শেষ কথা

গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় গুলো মেনে চললে আপনি অনেকটাই সুস্থ বোধ করবেন। তবে মনে রাখবেন, ঘরোয়া উপায়ে যদি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না হয় এবং বুকে তীব্র ব্যথা বা ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সুস্থ থাকুন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা হলে তাৎক্ষণিক কী করবো? 

উত্তর: এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করুন অথবা সামান্য আদা ও লবণ চিবিয়ে খান।

২. লেবু পানি কি গ্যাস্ট্রিকের জন্য ভালো? 

উত্তর: কুসুম গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেলে এটি হজমে সাহায্য করে এবং এসিডিটি কমায়। তবে অতিরিক্ত এসিডিটিতে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন