গ্যাস্টিক আলসার কি? গ্যাস্টিক আলসার থেকে মুক্তি উপায়/গ্যাস্টিক আলসার - Bangla TechLink

গ্যাস্টিক আলসার থেকে মুক্তি উপায়-গ্যাস্টিক আলসার হলো এমন একটি রোগ! যা আপনার জীবন কেড়ে নিতে পারে। গ্যাস্টিক আলসার কোনো সাধারণ রোগ নয়! এ রোগের রোগীরাই জানে এই রোগটি কতটা মারাত্মক। গ্যাস্টিক আলসার মূলত গ্যাস্টিক থেকেই উৎপন্ন হয়। গ্যাস্টিক আলসারকে ডাক্তারি ভাষায় বলে হয়ে থেকে পেপটিক ডিজিজ বা গ্যাস্টিক আলসার ডিজিজ। গ্যাস্টিক আলসার হওয়ার মূলত কারণগুলো হল– অনিয়মিত খাদ্য অভ্যাস, অতিরিক্ত তেল মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া, পরিমানের অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, সকালের নাস্তা দেড়িতে করা, পানি কম পান করা, সকালের নাস্তা হোটেল বা দোকানে করা, ইত্যাদি কারণে গ্যাস্টিক আলসার হয়ে থাকে। 

গ্যাস্টিক আলসার থেকে মুক্তি উপায়


গ্যাস্টিক আলসার থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় আজকের এই আর্টিকেলে সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করব। আজকের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ করছি - কারণ আমাদের এই রোগটি সমন্ধে জানতে হবে। আর আমরা এই আর্টিকেলে তুলে ধরব- গ্যাস্টিক আলসার কি, গ্যাস্টিক আলসারের লক্ষণ, গ্যাস্টিক আলসারের কারণ, গ্যাস্টিক আলসার থেকে মুক্তির উপায়, গ্যাস্টিক আলসার বা পেপটিক আলসার রোগীর খাদ্য তালিকা, গ্যাস্টিক আলসার রোগীর যেসব খাবার খেতে পারবে না, গ্যাস্টিক আলসার কতদিনে ভাল হয়, গ্যাস্টিক আলসারের ঔষধ কোনটি, ইত্যাদি। তাই আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য উপযোগী হতে চলছে। আর এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ে আপনি গ্যাস্টিক আলসার থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে পাবেন। 



গ্যাস্টিক আলসার কি

গ্যাস্ট্রিক আলসার হলো খাদ্যনালির ভেতরে যে ক্ষত সৃষ্টি হয় সেটিকে বোঝায়। যদি আপনার গ্যাস্ট্রিকের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ের চেয়ে অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায় তখন এই আলসারের সৃষ্টি হয়। গ্যাস্ট্রিক আলসার সৃষ্টি হয় এইচ পাইলোরি নামে একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে। গ্যাস্টিক আলসারকে পেপটিক ডিজিজ বা গ্যাস্টিক আলসার ডিজিজ বলা হয়ে থাকে। 


গ্যাস্টিক আলসারের লক্ষণ

গ্যাস্টিক আলসার কারো কাছেই এখন অপরিচিত নয়। বরং আমাদের শুনা নিত্যদিনের একটি রোগের নাম। গ্যাস্টিক আলসার রোগের লক্ষণগুলো আমারা অনেকেই জানি। তবে বিশেষ কিছু  গ্যাস্টিক আলসারের লক্ষণ দেখে বুঝা যায় যে, এটা গ্যাস্টিক আলসারের পূর্বাভাস। তো চলুন দেখে নেওয়া যাক - গ্যাস্টিক আলসারের লক্ষণ - গুলো কি কি?


গ্যাস্ট্রিক আলসারের বিভিন্ন লক্ষণগুলি হলো এমনঃ 


১. পেটে চাপ এবং পেটে বুলবুলি/উতলানি অবস্থা অনুভব করা।
২. পেটে জ্বর এবং তাপমাত্রা বাড়া অবস্থা মহসূস হতে পারে।
৩. খাবার খেতে সময় ব্যথা অনুভব করা।
৪. অপ্রয়োজনীয় ওজন কমে যেতে পারে।
৫. প্রকৃতির/মূত্র বন্ধ হওয়া অবস্থা।
৫. পেটে এলার্জি বা প্রক্রিয়াজাত শব্দ অবস্থা অনুভব হতে পারে।
৬. পেট চুলকানো অবস্থা, অতিরিক্ত গ্যাস অনুভব করা।
৭. পেটের উপরের দিকে যন্ত্রণা অনুভব হওয়া।
৮. মুখ দিয়ে নুন জল উঠে।
৯. বমি বমি ভাব হওয়া কিংবা বমি হয়ে যাওয়া।
১০. বুকে জ্বালাপোড়া করা।
১১. খাওয়ার পরে পেট ফুলে থাকা বা পেট ফাঁপা হয়ে যাওয়া
১২. পিঠে ব্যথা অনুভব হওয়া।
১৩. বেশি বেশি ঢেকুর উঠা।
১৪. মূত্রত্যাগের সময় রক্তপাত।
১৫. খাওয়ার প্রতি আগ্রহ কম থাকে।
১৬. ক্ষুধা লাগে কিন্তু অল্প খাবারই ক্ষুধা মিটে যায়।
১৭. শরীরের ওজন হ্রাস পায়।


যদি আপনি উপরোক্ত লক্ষণগুলি অনুভব করেন, তাহলে গ্যাস্ট্রিক আলসারের সম্ভাব্য সনাক্তগুলির জন্য ডাক্তারের পরামর্শ প্রাপ্ত করা উচিত।



গ্যাস্টিক আলসারের কারণ

পেটে অবস্থিত অ্যাসিড- হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (Hydrochloric acid) যা খাবার হজমে সাহায্য করে। যদি এই অ্যাসিড খাদ্যনালির আস্তরণের ক্ষতি করে তখন আলসার রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও পেটি হেলি ভেক্টর পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি এবং অ্যাসপিরিন নামক অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ব্যথা রিলিভারস ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের ফলে এই গ্যাস্ট্রিক আলসারের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও গ্যাস্ট্রিক আলসারের সৃষ্টি হওয়ার আরো কিছু কারণ রয়েছে। যেমন:

১. এইচ পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ

২. নিয়ামিত প্রাণিবিজ্ঞান বা গ্রাসতন্ত্র ও পাচক প্রণালীর অস্বাস্থ্যকর কামক্ষমতা

৩. খাবারে অতিরিক্ত তেল বা তৈল উপকরণের ব্যবহার বা তৈলাক্ত খাবার খাওয়া। 

৪. নিয়মিত অতিরিক্ত আসিডিক খাবার খাওয়া

৫. ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া বা খাওয়ার সময় অতিরিক্ত সময় লাগান

৬. জাতিগত/বংশগত প্রবণতা

৭.কিশোর বয়সে অতিরিক্ত আসিড সেবন

৮. ধূমপান/অ্যালকোহল বা মাদকাসক্ত হলে

৯. খাবার নিয়মিত না খাওয়া

১০. সকালে দেড়িতে ঘুম থেকে উঠা এবং সকালের নাস্তা দেড়িতে করা

১১. পরিমাণের চেয়ে বেশি খাবার খাওয়া 

১২. একেক দিন একেক সময়ে খাবার খাওয়া 

১৩. হোটেল বা দোকানের খাবার বেশি খাওয়া 

১৪. অ্যাসপিরিন ও ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা, ইত্যাদি।

এই কারণগুলো গ্যাস্ট্রিক আলসারের জন্য দায়ী। তাই যথা সম্ভব এগুলোকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে।


গ্যাস্টিক আলসার থেকে মুক্তির উপায় 

গ্যাস্ট্রিক আলসারে আক্রান্ত হলে যথাসময়ে চিকিৎসা করানো উচিত। যদি কেউ অবহেলায় এই রোগটিকে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে তবে ধীরে ধীরে তা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকে। তাই অবশ্যই এই রোগ দেখা দেওয়া মাত্র রোগীর চিকিৎসা করা প্রয়োজন। ডাক্তাররা এই ধরনের রোগীকে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তা রোগীকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে নয় দিন দিন এর আক্রান্ত হয়ে জীবন ঝুঁকিতে পরতে পারে। নিম্নে কিছু গ্যাস্টিক আলসার থেকে মুক্তির উপায় তুলে ধরেছি–


১. বেশি পরিমাণে পানি পান করা

এটি সহজ এবং প্রথম পদক্ষেপ হলো বেশি পরিমাণে পানি পান করা। প্রতিদিন কমপক্ষে 8 গ্লাস পানি পান করা গুড়ি গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং অন্যান্য পেট সমস্যার জন্য উপকারী। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন বেশি পরিমানে পানি পান করা। তবে খেয়াল রাখতে হবে পানি পান করারও অনেক নিয়ম আছে। 


২. স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগীদের জন্য সঠিক পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন। পুষ্টিকর বলতে যে, দুধ, গোশত, বিভিন্ন ফলকে বোঝায় তা নয় বরং এগুলো ছাড়াও অনেক পুষ্টিসম্পন্ন খাবার আছে, যেগুলা আমাদের খাওয়া উচিত। 


৩. ব্যায়াম বা শরীর চর্চা 

ব্যায়াম করা গ্যাস্ট্রিক আলসারের জন্য উপকারী হতে পারে কারণ এটি শরীরের অন্তর্ভুক্ত পদার্থ প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করতে পারে।


৪. স্ট্রেস কমানো

স্ট্রেস কমানো গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং অন্যান্য পেট সমস্যাদির জন্য উপকারী। স্ট্রেস কমানোর জন্য ধ্যান,মেডিটেশন ব্যবহার করতে পারেন।

৫. ওষুধ

পেপটিক আলসারের রোগীরা সাধারণত এন্টাসিড, রেনিটেডিন, ফেমুটেডিং, ওমিপ্রাজল, লেন্সোপ্রাজল জাতীয় ঔষধ সেবনে উপকৃত হন।

৬. অপারেশন

পেপটিক আলসারের ক্ষেত্রে অপারেশন সাধারণত জরুরি নয় তবে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবনের পরে যদি রোগী ভালো না হয় অর্থাৎ পোষ্ঠিক নালীর কোন অংশ যদি ক্ষতি বা নষ্ট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে অপারেশনের করিয়ে রোগী উপকৃত হতে পারেন।


৭. ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করা

সর্বশেষ, গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং অন্যান্য পেট সমস্যাদির জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। আপনি যদি কোনও গ্রেডের গ্যাস্ট্রিক আলসার অনুভব করেন তবে আপনার ডাক্তার সাথে সামান্য সময় কাটাতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত। 

সময়মত পেপটিক আলচার বা গ্যাস্টিক আলসারের চিকিৎসা না করলে রোগীর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। এই অলসতার কারণে রোগীর জীবনের ঝুঁকি আনতে পারে। এমনি এতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।


গ্যাস্টিক আলসার রোগীর খাদ্য তালিকা 

গ্যাস্টিক আলসার থেকে মুক্তির জন্য অবশ্যই খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হবে। খাদ্য মানুষকে শক্তি যোগায়। আর গ্যাস্টিক আলসার মূলত খাবারের জন্য পেটে গ্যাস্টিক এর উৎপন্ন হয়। তাই আমাদের নিয়মিত পুষ্টিকর এবং সময়মতো খাবার খেতে হবে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক- 

পেপটিক আলসার রোগীদের জন্য উপযুক্ত খাবারের তালিকা নিম্নলিখিতঃ


১. সফট ফল (যেমন: ব্যানানা, প্যাপায়া, আপেল)

২. সফট সবজি (যেমন: গাজর, সবুজ শাক)

৩. গরুর মাংস বা মুরগির মাংস (ভাজা বা গ্রিল)

৪. দুধ এবং দুধপ্রস্তাবিত পণ্য (যেমন: দই, প্যানি)

৫. ড্রাই ফ্রুট (যেমন: খেজুর, কিশমিশ)

৬. পুষ্টিকর রোটি বা পারাটা

৭. সুস্থ প্রোটিন শস্য (যেমন: ব্রাউন রাইস, কুইনোয়া)

৮. নিউটস এবং সীডস (যেমন: বাদাম, সুন্দরীয় বীজ)

৯. যত্ন নেওয়া হলে ফিশ এবং সমুদ্রজলের উপকরণ (যেমন: সালমন, শ্রিম্প)

১০. আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাবার তালিকা তৈরি করা উচিত বা খাবার সেবন করা 


মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, পেপটিক আলসার রোগীর খাবারের তালিকা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য অবস্থা, রোগের ধরণ এবং ডাক্তারের পরামর্শের উপর ভিত্তি করে সংশোধিত হতে পারে।


গ্যাস্টিক আলসার রোগীর যেসব খাবার খাওয়া নিষেধ 

গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগীরা চাইলেই সব খাবার খেতে পারবে না। নিয়ম ছাড়া খেলে তাদের সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে এ থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগীদের রোগ নিরাময়ে যে সমস্ত খাবারগুলো বর্জন করা জরুরি সেগুলো হলঃ


১. কফি কিংবা ক্যাফাইন সমৃদ্ধ খাবার।

২. অতিরিক্ত তেল মসলা ঝাল যুক্ত খাবার।

৩. ভাজাপোড়া বাদ দিন।

৪. লাল মাংস অর্থাৎ গরু খাসি ইত্যাদির মাংস।

৫. দুধ ও দগ্ধজাত খাবার।

৬. বাইরের রিচ ফুড কিংবা ফাস্টফুড।

৭. কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।

৮. ধূমপান ও অ্যালকোহল বাদ দিন।

৯. অ্যাসপিরিন ও ব্যথা নাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

১০. অতিরিক্ত টক খাওয়া বাদ দিন কারণ তা আলসারের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।


উপরোক্ত খাবারগুলোকে গ্যাস্টিক আলসার রোগীদের এড়িয়ে চলতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। মনে রাখতে হবে এই রোগে আক্রান্ত হলে হেলা/অবহেলা করা যাবে না। এতে করে সারা জীবন এই রোগ বহন করতে হতে পারে। তাই এই রোগেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত এবং রোগ মুক্ত জীবন করা দরকার।


গ্যাস্টিক আলসার কতদিনে ভাল হয়

গ্যাস্ট্রিক আলসারের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার উপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে, আলসার রোগীর স্থিতি থেকে বেঁচে আসার সময়টি মধ্যবর্তী এবং ব্যক্তিগত হতে পারে। চিকিৎসা শুরু করার পর, প্রাথমিক উপশমের জন্য কিছু সপ্তাহ প্রয়োজন হতে পারে, তবে গভীর পরামর্শ এবং স্থিতিতে পরিস্থিতি অবমুক্ত করতে বেশ সময় লাগতে পারে।


এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রতিটি রোগীর শারীরিক উপস্থিতি এবং চিকিৎসা সাধারণ ভিত্তিতে পরিবর্তন করতে পারে, এবং শীঘ্রই শারীরিক শান্তি অর্জন করা বাধ্যতামূলক নয়। ডাক্তারের পরামর্শের উপর নির্ভর করে বেশ সময় এবং স্থির চিকিৎসা সম্পন্ন করা উচিত।



গ্যাস্টিক আলসারের ঔষধ কোনটি 

গ্যাস্ট্রিক আলসারের জন্য ডাক্তারের পরামর্শে ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকার ঔষধ ব্যবহার করা হতে পারে। এই ঔষধগুলির মধ্যে যেগুলি থাকতে পারে তা নিম্নলিখিতঃ


১. প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরস (PPIs)

এই ঔষধগুলি স্টমাক এসিড উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে এবং আলসার রোগের উপকারিতা প্রদান করতে পারে।

২. হিস্টামিন-২ ব্লকারস

 এই ঔষধগুলি স্টমাকে এসিড উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।

৩. অ্যান্টাসিড

এই ঔষধগুলি অম্লীয় পানি তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে এবং অম্লীয়তা কমাতে সাহায্য করতে পারে।



এই ঔষধগুলির ব্যবহার এবং মাত্রা ডাক্তারের পরামর্শে ভিত্তি করে সেবন করা উচিত। 



কিছু সম্পর্কিত প্রশ্নত্তর


গ্যাস্টিক আলসার কি?


উত্তরঃ গ্যাস্টিক আলসার হচ্ছে পাকস্থলীতে হাইডোক্লোরিক অ্যাসিডের কারণে বা এইচ পাইলোরি নামে একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে সৃষ্ট রোগ। 


পেপটিক বা গ্যাস্ট্রিক আলসার কি কোন ছোঁয়াচে বা সংক্রমিত রোগ?


উত্তরঃ পেপটিক আলসার কোন ছোঁয়াচে বা সংক্রমিত রোগ নয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকলে অন্য কারো এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।


পেপটিক আলসার কি পাকস্থলীর কোনো রোগ?


উত্তরঃ পেপটিক আলসার যে শুধুমাত্র পাকস্থলীতেই হয়ে থাকে তা কিন্তু নয় বরং এটি পোষ্টীক তন্ত্রের যে কোন অংশেই হতে পারে।


পেপটিক আলসার বা গ্যাস্টিক আলসার কি ক্যান্সারের কারণ হতে পারে?


উত্তরঃ যদি যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা না করা হয় তাহলে পেপটিক আলসার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।


এইচ পাইলোরি হওয়ার কতদিন পর ভালো হয়?


উত্তরঃ এটি ভালো হতে সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহের মতো সময় লাগে। তবে আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। 


এইচ পাইলোরি কি কালো মল সৃষ্টি করে 


উত্তরঃ এইচ পাইলোরি এর উপস্থিতি সবসময় উপসর্গ সৃষ্টি করে না; যাইহোক, যদি ঘা বা আলসার থাকে তবে আপনি পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, রক্তাক্ত বা কালো মল, ফোলাভাব বা ক্ষুধায় পরিবর্তন বা ওজন হ্রাস অনুভব করতে পারেন।


এইচ পাইলোরি কি বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে


উত্তরঃ হ্যাঁ! এইচ পাইলোরি কি বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কারণ এইচ পাইলোরি সংক্রমণ এবং খাদ্যনালী রিফ্লাক্স এবং বুকের ব্যথার মধ্যে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। 


শেষ কথা

সম্মানিত ভাই-বন্ধুরা গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে মুক্তি পাওয়া খুব একটা কঠিন কাজ নয়। নিয়ম মেনে চললে, নিয়ম মেনে খাবার খেলে, ক্ষতিকর খাবারগুলো বর্জন করলে খুব সহজেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু ওষুধ সেবন করাও জরুরী। তাই বিচলিত না হয়ে সঠিক চিকিৎসা নিন এবং সঠিক নিয়ম মেনে জীবন যাপন করুন। এতে করে শরীর সুস্থ থাকবে। আপনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবেন।

 আমাদের আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে মুক্তির উপায় কি। আপনারা এতক্ষণ আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ে নিশ্চয়ই এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আমাদের ওয়েবসাইটে আরও বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল পেতে অবশ্যই নিয়মিত ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন। কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। আর অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন এবং আমাদের সাথে থাকবেন। আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।


পোস্ট ট্যাগঃ 


গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগীর খাদ্য তালিকা, আলসার কত দিনে ভালো হয়, আলসার হলে কি খাওয়া যাবে না, আলসার থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়,গ্যাস্ট্রিক আলসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা,আলসার হলে কি রুটি খাওয়া যাবে,আলসার হলে কি ঔষধ খাব,আলসার থেকে কি ক্যান্সার হয়,এইচ পাইলোরি কি বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে, এইচ পাইলোরি কি বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে, এইচ পাইলোরি কি কালো মল সৃষ্টি করে, এইচ পাইলোরি হওয়ার কতদিন পর ভালো হয়, পেপটিক আলসার বা গ্যাস্টিক আলসার কি ক্যান্সারের কারণ হতে পারে, পেপটিক আলসার কি পাকস্থলীর কোনো রোগ, পেপটিক বা গ্যাস্ট্রিক আলসার কি কোন ছোঁয়াচে বা সংক্রমিত রোগ, গ্যাস্টিক আলসারের ঔষধ কোনটি, গ্যাস্টিক আলসার রোগীর যেসব খাবার খাওয়া নিষেধ, 




আরও আপনার জন্য–











Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন