গ্যাস্ট্রিক হলে কি কি খাওয়া যাবে না এবং ঘরোয়া চিকিৎসা।

গ্যাস্ট্রিক হলে কি কি খাওয়া যাবে না?
Photo By Gemini 

গ্যাস্ট্রিক হলে কি কি খাওয়া যাবে না?

আমাদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা, গ্যাস্ট্রিক মানেই শুধু বুক জ্বালাপোড়া করা। আসলে এটি পেটের ভেতরের আস্তরণে প্রদাহের একটি লক্ষণ। সঠিক সময়ে সচেতন না হলে এটি আলসারের রূপ নিতে পারে। গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ওষুধের চেয়ে খাবারের দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।

আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব গ্যাস্ট্রিক হলে কি কি খাওয়া যাবে না এবং কোন খাবারগুলো আপনার পেটের সমস্যার প্রধান শত্রু। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক- 

১. অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার

গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অতিরিক্ত ঝাল এবং গরম মসলা। লাল মরিচের গুঁড়া বা কাঁচা মরিচ পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে তীব্র পেট ব্যথা বা বুক ও পেট জ্বালাপোড়া শুরু হয়।

২. তেলে ভাজা ও চর্বিযুক্ত খাবার

শিঙাড়া, সমুচা, চপ বা দোকানের পোড়া তেলের ভাজাপোড়া খাবার হজম হতে অনেক সময় নেয়। এসব খাবারে থাকে অতিরিক্ত ফ্যাট পাকস্থলীর পেশিকে শিথিল করে দেয়, ফলে অ্যাসিড খুব সহজেই উপরে উঠে আসে।

৩. টক জাতীয় ফল (Citrus Fruits)

এমনিতে ফল শরীরের জন্য ভালো হলেও গ্যাস্ট্রিকের তীব্র অবস্থায় লেবু, কমলা, মাল্টা বা আঙুরের মতো টক ফল এড়িয়ে চলা উচিত। এসব ফলে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড পেটের জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে।

৪. ক্যাফেইন বা চা-কফি

সকাল-বিকেল এক কাপ চা বা কফি আমাদের ক্লান্তি দূর করলেও এটি গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। ক্যাফেইন পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে খালি পেটে চা বা কফি খাওয়া একদমই উচিত নয়।

৫. কার্বোনেটেড বেভারেজ বা কোমল পানীয়

কোক, পেপসি বা যেকোনো সোডা জাতীয় পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড থাকে। এগুলো পান করলে পেটে গ্যাস জমে পেট ফেঁপে যায় এবং অস্বস্তি তৈরি করে।

৬. প্রসেসড ফুড ও ফাস্ট ফুড

পিৎজা, বার্গার বা টিনজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ এবং সোডিয়াম থাকে। এগুলো হজম প্রক্রিয়ায় বাধা দেয় এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করে।

গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু জরুরি টিপস

একবারে বেশি খাবেন না: পেটে একটু জায়গা রেখে খাবার খান।

ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান: খাবার ভালোমতো চিবিয়ে খেলে হজম সহজ হয়।

রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়া: ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।

পর্যাপ্ত পানি পান: তবে খাওয়ার ঠিক মাঝখানে বা পরপরই প্রচুর পানি খাবেন না।

সতর্কবার্তা: দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অবহেলা করবেন না। যদি ঘরোয়া উপায়ে বা ডায়েট পরিবর্তনের পরও সমস্যা না কমে, তবে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

উপসংহার

সুস্থ থাকার চাবিকাঠি আপনার হাতেই। "গ্যাস্ট্রিক হলে কি কি খাওয়া যাবে না" এই তালিকাটি মেনে চললে আপনি প্রাকৃতিকভাবেই সুস্থ থাকতে পারবেন। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আর সঠিক খাদ্যাভ্যাসই আপনাকে দিতে পারে গ্যাস্ট্রিক মুক্ত সুন্দর জীবন।

আশা করি, এই পর্যন্ত ব্লগটি পড়ে বুঝতে পারছেন গ্যাস্ট্রিক হলে আমাদের কি করা উচিত এবং সঠিক কারণ কি ও কি কি খাওয়া যাবে না। আরও স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সমন্ধে জানতে আপনি আপনার মতামত দিয়ে জানিয়ে দিন এবং আপনার প্রিয় স্বজন যারা এই রোগে ভুগছে তাদের আমাদের এই ব্লগটি শেয়ার করুন ও আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাতে সাহায্য করুন। ধন্যবাদ 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন