![]() |
| Photo by Gemini |
যেসব খাবার গ্যাস্ট্রিক সারাতে সাহায্যে করে ও খেলে আরাম পাবেন।
গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণা শুরু হলে আমরা অনেকেই দ্রুত এন্টাসিড বা গ্যাসের বড়ি খুঁজে বেড়াই। কিন্তু আপনি কি জানেন, আমাদের রান্নাঘরেই এমন কিছু খাবার আছে যা মুহূর্তেই গ্যাসের ব্যথা বা বুক জ্বালাপোড়া কমিয়ে দিতে পারে? নিয়মিত এই খাবারগুলো খেলে আপনি স্থায়ীভাবে গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
চলুন জেনে নিই গ্যাস্ট্রিক কমাতে সহায়ক খাবারগুলো সম্পর্কে
১. আদা (Ginger)
আদা প্রাকৃতিকভাবে প্রদাহরোধী বা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানে ভরপুর। খাবার খাওয়ার পর এক টুকরো আদা লবন দিয়ে চিবিয়ে খেলে অথবা আদা চা পান করলে দ্রুত হজম হয় এবং পেটের গ্যাস বেরিয়ে যায়।
২. ঠান্ডা দুধ
বুক জ্বালাপোড়া বা এসিডিটি হলে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করুন। দুধের ক্যালসিয়াম পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড শোষণ করে নেয় এবং পাকস্থলীকে শান্ত রাখে। তবে যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুধে অ্যালার্জি আছে, তারা এটি এড়িয়ে চলবেন।
৩. পেঁপে (Papaya)
পেঁপেতে রয়েছে 'প্যাপাইন' নামক এনজাইম, যা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ভারী খাবার বা মাংস খাওয়ার পর সামান্য পাকা পেঁপে খেলে পেটে গ্যাসের উদ্রেক হয় না।
৪. দই বা প্রোবায়োটিকস
টক দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া (Probiotics) হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং পাকস্থলীর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে। নিয়মিত দুপুরে খাওয়ার পর এক বাটি দই খাওয়ার অভ্যাস গ্যাস্ট্রিকের রোগীদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।
৫. কলা (Banana)
কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা প্রাকৃতিক এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে। এটি পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেটের অস্বস্তি কমায়। সকালের নাস্তায় নিয়মিত একটি কলা রাখা খুব উপকারী।
৬. মৌরি ও জোয়ান (Fennel & Ajwain)
খাবার খাওয়ার পর সামান্য মৌরি বা জোয়ান চিবিয়ে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেক কমে যায়। এটি পেটের পেশিকে আরাম দেয় এবং খাবার দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে।
গ্যাস্ট্রিক থেকে দূরে থাকতে আরও কিছু টিপস:
ডাবের পানি: শরীর হাইড্রেটেড রাখে এবং অতিরিক্ত এসিডিটি দূর করে।
পুদিনা পাতা: পুদিনা পাতার রস বা চা বমি ভাব এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে দারুন কাজ করে।
সারাদিনে অল্প অল্প পানি: একবারে বেশি পানি না খেয়ে সারাদিন বারবার অল্প অল্প পানি পান করুন।
শেষ কথা
গ্যাস্ট্রিক কোনো জটিল রোগ নয়, বরং এটি আমাদের ভুল জীবনযাত্রার ফল। সঠিক খাবার নির্বাচন এবং নিয়ম মেনে চললে কোনো ওষুধ ছাড়াই গ্যাস্ট্রিকমুক্ত থাকা সম্ভব। উপরের এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলো মেনে দেখুন, ফল হাতেনাতে পাবেন।
আপনি কি নিয়মিত গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন? আপনার কোনো বিশেষ প্রশ্ন থাকলে আমাকে করতে পারেন, আমি সাহায্য করার চেষ্টা করব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন