বাচ্চাদের সর্দি কাশির ঔষধের নাম ও কাশির সিরাপ
বাচ্চাদের সর্দি-কাশি বা সিজনাল ফ্লু একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, এটি বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা দ্রুত সর্দিতে আক্রান্ত হয়। আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব "বাচ্চাদের সর্দি কাশির ঔষধের নাম" বিভিন্ন কার্যকরী সিরাপ এবং কিছু ঘরোয়া প্রতিকার নিয়ে।
বিশেষ সতর্কবার্তাঃ এই ব্লগে উল্লেখিত ঔষধের নামগুলো শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। বাচ্চার বয়স এবং ওজন অনুযায়ী ঔষধের মাত্রা ভিন্ন হয়। তাই কোনো ঔষধ খাওয়ানোর আগে অবশ্যই একজন শিশু বিশেষজ্ঞের (Pediatrician) পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বাচ্চাকে এন্টিবায়োটিক বা কড়া ঔষধ দেবেন না।
সাধারণ সর্দি ও জ্বরের জন্য কার্যকরী ঔষধ (Paracetamol)
বাচ্চাদের সর্দির সাথে হালকা জ্বর বা গা ব্যথা থাকলে সাধারণত প্যারাসিটামল গ্রুপের ঔষধ দেওয়া হয়। এটি নিরাপদ এবং দ্রুত কাজ করে।
জনপ্রিয় কিছু ব্র্যান্ডের নাম (ড্রপ ও সিরাপ):
Napa (নাপা): সিরাপ বা ড্রপ (বয়স অনুযায়ী)।
Ace (এইস): এটিও বেশ জনপ্রিয় এবং কার্যকরী।
Renova (রেনোভা): জ্বরের জন্য ভালো কাজ করে।
কখন খাওয়াবেন?
সাধারণত ১০১ ডিগ্রির বেশি জ্বর থাকলে বা বাচ্চার শরীর ব্যথার কারণে কান্নাকাটি করলে ওজন অনুযায়ী এই ঔষধ দেওয়া হয়।
বাচ্চাদের সর্দি ও অ্যালার্জির ঔষধ (Antihistamine)
বাচ্চার যদি নাক দিয়ে পানি পড়ে, হাঁচি হয় বা চোখ লাল হয়ে যায়, তবে এটি অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ দেন।
জনপ্রিয় কিছু কাশির সিরাপের নামঃ
Alatrol (এলাট্রল): ৬ মাসের বেশি বয়সী বাচ্চাদের জন্য।
Antazol (অ্যান্টাজল): সর্দি কমাতে সাহায্য করে।
Tofen (টোফেন): এটি দীর্ঘমেয়াদী সর্দি বা কাশির জন্য দেওয়া হয়।
Deslor (ডেসলর): কম ঘুমের উদ্রেক করে এমন ঔষধ।
বাচ্চাদের কাশির সিরাপের নাম (Cough Syrups)
কাশির ধরণ (শুকনো কাশি নাকি কফযুক্ত কাশি) বুঝে সিরাপ নির্বাচন করতে হয়। তবে বাচ্চাদের জন্য ভেষজ বা হার্বাল সিরাপগুলো বেশ নিরাপদ এবং কার্যকরী।
১. ভেষজ বা হারবাল কাশির সিরাপ (সবচেয়ে নিরাপদ)
এগুলো সাধারণত তুলসী, বাসক পাতা ও মধুর নির্যাস দিয়ে তৈরি হয়। এগুলো বুকে জমে থাকা কফ বের করতে সাহায্য করে।
- Adovas (এডোভাস)
- Basok (বাসক)
- Tulsic (তুলসিক)
২. শুকনো কাশির ঔষধ
বাচ্চার যদি খুসখুসে কাশি হয় কিন্তু কফ বের না হয়, তবে ডাক্তাররা নিচের ঔষধগুলো সাজেস্ট করতে পারেনঃ
Butamirate Citrate (যেমন: Mirakof): এটি কাশি দমাতে সাহায্য করে।
৩. কফ বা শ্লেষ্মা যুক্ত কাশি
বুকে কফ জমে থাকলে তা তরল করে বের করার জন্য মিউকোলাইটিক (Mucolytic) ঔষধ ব্যবহার করা হয়।
Ambroxol (যেমন: Ambrox):এটি কফ পাতলা করে।
বাচ্চার সর্দি-কাশিতে ঘরোয়া চিকিৎসা
ঔষধের পাশাপাশি ঘরোয়া যত্ন বাচ্চার সুস্থতার জন্য জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে যাদের বয়স ২ বছরের কম, তাদের জন্য ঘরোয়া টোটকা সেরা।
১. মধু ও তুলসী পাতাঃ ১ চামচ মধুর সাথে তিলসী পাতার রস মিশিয়ে খাওয়ালে কাশি কমে। (১ বছরের নিচের বাচ্চাকে মধু দেবেন না)।
২. গরম ভাব বা স্টিমঃ বাচ্চার নাক বন্ধ থাকলে গরম পানির ভাপ বা নেবুলাইজার ব্যবহার করলে আরাম পায়।
৩. আদা চাঃ একটু বড় বাচ্চাদের আদা, লেবু ও মধু দিয়ে হালকা গরম চা খাওয়াতে পারেন।
৪. সরিষার তেল ও রসুনঃ রসুনের কোয়া সরিষার তেলে গরম করে বাচ্চার বুক, পিঠ এবং পায়ের তলায় মালিশ করলে সর্দি কমে।
৫. তরল খাবারঃ বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের জুস বা স্যুপ খাওয়ান।
কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন?
সব সর্দি-কাশি সাধারণ নয়। নিচের লক্ষণগুলো দেখলে দেরি না করে হাসপাতালে নিনঃ
- বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হলে বা শ্বাস নিতে বুকের পাঁজর ডেবে গেলে।
- জ্বর ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে।
- বাচ্চা খাওয়া-দাওয়া একদম বন্ধ করে দিলে বা নিস্তেজ হয়ে পড়লে।
- কাশির সাথে রক্ত বা হলুদ/সবুজ কফ বের হলে।
উপসংহার
বাচ্চাদের সর্দি কাশির ঔষধের নাম জানার পাশাপাশি বাচ্চার সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। ঋতু পরিবর্তনের সময় বাচ্চাদের ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখুন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, সঠিক চিকিৎসায় আপনার সোনামণি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
আপনার কি এই বিষয়ে আরও কোনো প্রশ্ন আছে? নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন